...........................................................
“good artists borrow, great artists steal.” বিশ্ববরেণ্য শিল্পী পাবলো পিকাসো এই চুরি সংক্রান্ত উক্তিটি বাইরের মোটা দাগের চুরি নয়,বরং শিল্পের অন্তর্নিহিত চলন আত্মীকরণ প্রসঙ্গে বলেছিলেন,কিন্তু সত্যিই একবার চোর সাব্যস্ত না হলেও সন্দেহের মুখে পড়েছিলেন পিকাসো; তাও আবার যে সে ছবি নয়,খোদ লিওনার্দোর মোনালিসা চুরির দায় আরেকটু হলেই পড়ছিল পিকাসোর ঘাড়ে।
১৯১১র ২২শে আগষ্ট,ল্যুভর থেকে চুরি গেলো মোনালিসা। ঢিলেঢালা নিরাপত্তা বেষ্টনীকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে লক্ষ মানুষের চোখের মণি তুলে নিয়ে গেল চোর,খবর জানা গেল ২৪ ঘন্টা পরে,অর্থাৎ চুরি গিয়েছে আগেরদিনই।এর কিছুদিন আগেই মিউজিয়ামের এক কারুকাজ করা কফিনে লুকিয়ে থেকে রাত্রিবাস করে একজন ফরাসী সাংবাদিক প্রমাণ করে দিয়েছেন যে ল্যুভরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতোটা ঢিলেঢালা অপ্রস্তত,সেখান থেকে অনায়াসে যেকোনো শিল্পদ্রব্য নিয়ে নিশ্চিন্তে পিঠটান দেওয়া যায়।কারণ মাত্র ১৫০ জন নিরাপত্তারক্ষী পাহারা দেন আড়াই লক্ষ শিল্পদ্রব্যের।
এমন হাই প্রোফাইল চুরির পর স্বাভাবিকভাবেই আলোড়ন পড়ে গেল,পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে খতিয়ে দেখতে শুরু করলো প্রতিটি ক্লু,দেশের সীমান্ত সীল করে দেওয়া হল যাতে অপহৃত দ্রব্য দেশের বাইরে যেতে না পারে। কিন্তু দিনের পর দিন কেটে যায়, চুরির কিনারা হয়না। প্যারিস জার্নাল ঘোষণা করে মোনালিসা ফিরিয়ে দিলে দেওয়া হবে পঞ্চাশ হাজার ফ্রাঁ, এমন সময় Joseph Géry Pieret নামের এক ব্যক্তি পুরস্কারের লোভে সটান প্যারিস জার্নালের অফিসে ঢুকে জানালো যে সে কিছু তথ্য দিতে পারে, কেননা সে প্রায়শই এরকম মূল্যবান শিল্পদ্রব্য চুরি করে থাকে ল্যুভর থেকে, জেরায় জানা যায় এরকম আইবেরিয়ান দুটি মূর্তি সে বেচেছে জনৈক শিল্পীকে, ১০০ ফ্রাঁর বিনিময়ে.......আরো জানা যায় যে এই Pieret ছিল আগে সাহিত্যিক অ্যাপোলিনেয়র এর সেক্রেটারি, ব্যাস দুয়ে দুয়ে চার হতে থাকে অঙ্ক, বোঝা যায় যে ঐ “জনৈক শিল্পী” আসলে পিকাসোই, কারণ অ্যাপোলিনেয়রের অন্তরঙ্গ বন্ধু হলেন পিকাসো। ল্যুভরের স্ট্যাম্প মারা শিল্পদ্রব্য চোরাই জেনেও কিনেছেন পিকাসো, ফলে তাদের দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে তদন্ত হতে পারে, এই ভয়ে দুই বন্ধু একদিন পুরোনো স্যুটকেসে ভরে বাড়ি থেকে দূরে শ্যেন নদীতে ফেলে দিতে যান মূর্তিদুটি, পরে অবশ্য অ্যাপোলিনেয়র ফেরত দেন মূর্তিদুটি এবং পুলিশের কাছে ধরা পড়েন। কোর্টে কেস ওঠে, কিন্তু কী আশ্চর্য! পিকাসো কোর্টে দাঁড়িয়ে বলেন তিনি অ্যাপোলিনেয়রকে চেনেনই না, আরো বিস্তর জলঘোলা হওয়ার পর বিচারক বুঝতে পারেন, আর যাইহোক এদের সঙ্গে মোনালিসা চুরির কোনো সম্পর্ক নেই, ফলে জরিমানা দিয়ে রেহাই পান দুজনে।
এরও দুবছর বাদে,অর্থাৎ ১৯১৩ সালে খুঁজে পাওয়া যায় মোনালিসা,জানা যায় Vincenzo Peruggia নামে একজন ইতালিয়ান শিল্পী, যিনি ল্যুভরেই চাকরী করতেন, তিনিই সরিয়েছিলেন মোনালিসাকে। উদ্দেশ্য ছিল মাতৃভূমি ইতালির সম্পদ মোনালিসাকে ইতালিতেই ফিরিয়ে দেওয়া।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন