[এই চিঠিটি ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ তাঁর ভাই থিও ভ্যান গঘকে লেখেন ১৮৮১র ১২ই অক্টোবর,এটেন(Etten) থেকে। এটি ভাবানুবাদ,আক্ষরিক অনুবাদের চেয়ে কিছু ভিন্ন,আলোচ্য মূল চিঠির অংশবিশেষ ও ছবিগুলি সঙ্গে দেওয়া হল]
প্রিয় ভাই থিও,
পরিবারের সবাই আবার তোমাকে দীর্ঘ চিঠি লিখেছে,এই বড়োসড়ো চিঠিতে আমিও বা একটা ছোট্ট চিরকুট গুঁজে দেওয়ার লোভ ছাড়ি কেন?আশাকরি তুমি দিব্যি আছো,এবং শতকাজের মধ্যেও আধঘণ্টা সময় কাটছাঁট করে বের করে এই অভাগার চিঠির উত্তর দেবে।
এবার কাজের কথায় আসা যাক,তুমি হয়তো জানতে চাইবে আমি আজকাল কি রাজকার্য করছি,ভাইটি আমার,এসো নিজের পক্ষে কিছু সাফাই দেওয়া যাক।
প্রথমেই বলি,দুটো বড় স্কেচ করছি সারবাঁধা উইলো গাছের (Pollard willows) চক আর অল্প সেপিয়া রঙ দিয়ে,খানিকটা ঠিক এই নিচের খসড়ার মতো, তারপর আরেকটা খাড়াভাবে আঁকা ছবি,লিউসিয়েগ( Leurseweg) থেকে লিওরের( leur) দিকে চলে যাওয়া রাস্তার ছবি। শুনলে খুশি হবে দুটি মডেল পেয়েছি,মাটি খোঁড়ার শ্রমিক আর ঝুড়িবোনার কারিগর। আর একটা কথা,গত সপ্তাহে কাকার কাছ থেকে এক বাক্স রঙ উপহার পেয়েছি,আঃ!দিব্য,আপাতত এই দিয়েই চমৎকার কাজ শুরু করা যাবে।কি আনন্দই যে হচ্ছে!
আপাতত এরকম ধরণের কিছু জলরঙের ছবি করছি,নিচের ওই খসড়ার মতো।বিশেষ করে এখানে মডেলগুলিকে পেয়ে দিব্যি আমোদ হচ্ছে,এখন একটা ঘোড়া আর একটা গাধার সন্ধানে আছি,ওদেরও মডেল বানাবো।
আগে যে মোটা ইনগ্রেস কাগজের( Ingres paper) কথা বলেছিলাম,সেগুলো বিশেষ করে জলরঙের কাজ করার জন্যে বেশ উপযোগী,আর অন্য কাগজের তুলনায় বেশ সস্তাও বটে।এগুলো ভালো হলেও আমি আর মোটেও তাড়াহুড়ো করে গুচ্ছ কাগজ কিনছি না,কারণ হগ(Hague) থেকে যে কাগজগুলো কিনেছিলাম সেগুলো মোটেও ভালো নয়,একদম সাদাটে সাধারণ।
তাহলে নির্ঘাৎ বুঝতে পারছো বিস্তর খাটাখাটুনি করছি কাজ নিয়ে।
সেন্ট কাকা( Uncle Cent) আগামীকাল হগ (Hague) যাচ্ছেন এবং সম্ভবত উনি মভ (Anton Rudolf Mauve)এর সাথে কথা বলবেন যাতে আমি আবার ওঁর ওখানে গিয়ে কাজ দেখতে পারি।
এখন বিদায় দাও ভাই আমার,আজ অনেকদূর চলে গিয়েছিলাম কাজ করতে করতে,তাই বেশ ক্লান্তিবোধ করছি,কিন্তু আমার দুচার শব্দ ছাড়াই কোনো চিঠি তোমার কাছে চলে যাবে এটা মানতে পারলাম না,তাই এটুকু লিখলাম।
আশাকরি ঈশ্বর সব কাজে তোমার সহায় হবেন,দূর থেকে আন্তরিক করমর্দন পাঠালাম।
একান্তই তোমার, ভিনসেন্ট
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন